জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য সাঈদা সুলতানা শেফালীর জীবনযাপন আজ এক নির্মম বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি বসবাস করছেন একটি জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে।
সম্প্রতি তার বহু বছরের পুরোনো টিনের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড় ও প্রয়োজনীয় বাসনপত্র নিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুধু চুরির ঘটনাই নয়, সামনে আসে আরও একটি মানবিক চিত্র, যা স্থানীয়দের নাড়া দিয়েছে।
জানা যায়, তার বসবাসের ঘরটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বিছানা ভিজে যায়, শীতকালে ঠান্ডা বাতাসে বসবাস কষ্টকর হয়ে ওঠে এবং গরমের দিনে তীব্র রোদ সরাসরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। ন্যূনতম বসবাসযোগ্য পরিবেশও সেখানে নেই।
ইউপি সদস্য শেফালীর স্বামী ও সন্তান নেই। মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখলেও নিজের জন্য কিছু চাওয়ার অভ্যাস ছিল না তার। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কারো কাছে সাহায্য চাইতেও সংকোচ বোধ করেন তিনি।
তবে জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি সরকারের কাছে একটি ঘরের আবেদন জানিয়েছেন। তার নিজের ঘর তোলার মতো জায়গা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তিনি আশা করছেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ করে জীবনের বাকি সময়টুকু স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। এখন তার এই দুরবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিয়ে তাকে একটি ঘর নির্মাণে সহায়তা করা হোক। এজন্য তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
একজন জনসেবকের ন্যূনতম নিরাপদ আশ্রয়ের এই আবেদন এখন সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবিদ মাহমুদ রহমতুল্লাহ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫