নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৫ নং চর এলাকায় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের একটি মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে একটি মোটরসাইকেল জব্দ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ১৯ জুন রাতে মেলান্দহ উপজেলার ৫ নম্বর চর বাজারে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মেলান্দহ থানা পুলিশ। অভিযানে ইয়াবাসহ জুয়েল নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় বাজারে মিজানুর রহমানের দোকানের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করে পুলিশ।
জব্দ হওয়া মোটরসাইকেলটির মালিক শরিফ বেপারী (৩৫) । তার ধারণা, স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া (৫০) পুলিশকে তথ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলটি জব্দ করিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেল জব্দ হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শরিফ বেপারী চাঁন মিয়াকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাঁন মিয়া মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে চাঁন মিয়া ও তার পরিবারের দাবি, ওই অভিযোগের পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে শরিফ বেপারী থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, চাঁন মিয়া ও তার ভাই আতাউর রহমান তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করেছেন। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
চাঁন মিয়া ও আতাউর রহমান (৫৫) বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দাবি করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, ওইদিন এলাকায় কোনো মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, শরিফ বেপারীর অভিযোগটি প্রতিহিংসামূলক এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান বলেন, "আমাদের বিরোধী অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে। মাদকবিরোধী অভিযান কে কেন্দ্র করে কেউ যদি ফায়দা লুটতে চায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবিদ মাহমুদ রহমতুল্লাহ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬